নিউ নর্ম্যাল মেনেই পুজোর কাজে গতি

করোনার ভয় সঙ্গী করেও শহরবাসীকে পুজো উপহার দিতে ময়দানে জোরকদমে নেমে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। করোনা সতর্কতা বিধি যথাসম্ভব মেনেই এগোচ্ছে কাজের গতি

পুজোর প্রস্তুতি (প্রতীকী ছবি)

সকাল ৮টা। মাস্ক মুখে ব্যস্ত জনা ত্রিশ মণ্ডপশিল্পী। কেউ স্টোর রুম থেকে বাঁশ তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ বাঁশ পোঁতার গর্ত খুঁড়তে ব্যস্ত। তার মধ্যেই নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের কর্মকর্তারা বলে চলেছেন, হাত চালাও ভাই। আর এক মাসও নেই। পাল্টা উত্তর আসছে, চিন্তা করবেন না। সব সময়েই হবে।

সামজিক দুরত্ব লোকে মানছে কিনা, তা পুলিশ যেমন দেখবে, তেমনই আমাদের কমিটির ছেলেদেরও খেয়াল রাখতে হবে- আলোচনায় উপস্থিত সিনিয়রদের নির্দেশ। টালা প্রত্যয়ের পুজো কমিটির ঘরে বসা জুনিয়র সদস্যরা শুনেই জানিয়ে দিলেন, চিন্তা নেই। নজর থাকবে।

রবিবাসরীয় সকালে এ এক অন্যরকম আনলক।

বাজারে কেনাকাটার ভিড় এখনও তেমন শুরু না হলেও, অধিকাংশ জায়গাতেই মণ্ডপ তৈরির কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। কোন পুজোর কী থিম, সেই বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি শহরে বসতে শুরু করেছে পোশাক থেকে জুতো, জুয়েলারির পেল্লায় হোর্ডিং। কলকাতার পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের কথায়, ‘করোনা ঘিরে মানুষের ভয় ক্রমশ কাটছে। তা ছাড়া সাবধানতা অবলম্বন করে আনন্দে মাতলে তো সমস্যার কিছু নেই। মানুষ সেটা বুজেছে। সে কারণেই শহর ভীতি কাটিয়ে ক্রমশ ছন্দে ফিরছে।’

কম জাঁকজমকই যে এ বারের নিউ নর্ম্যাল, সে বাস্তব মেনে নিয়েছেন সবাই। চেতলা অগ্রণী ক্লাবে মণ্ডপ তৈরির কাজ সবে শুরু হলেও, মায়ের মূর্তি অনেকটাই এগিয়েছে। থিমের দায়িত্বে থাকা এক শিল্পী জানালেন, করোনা আবহে কাজ দেরিতে শুরু হয়েছে। ফলে একদিনে যত বেশি কাজ শেষ করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।

আগের বছর যেমন মহালয়ার দিন থেকেই দর্শকদের জন্য মণ্ডপ খুলে দিয়েছিল টালা পার্ক প্রত্যয়। তবে এবারে তিথি আলাদা, পরিস্থিতিও। দিন পাঁচেক হল বাঁশ পড়েছে মাঠে। অন্যতম কর্মকর্তা সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় জানালেন, ‘রবিবার সকলকে পাওয়া যায়। আর এই পরিস্থিতিতে রোজ তো সবাইকে ডাকা সম্ভব নয়। তাই আজ যাবতীয় আলোচনা সেরে নিলাম।’

প্রশাসনের তরফে পুজো মণ্ডপ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা ঘোষণা না হলেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চারপাশ খোলা রেখে প্যান্ডেল করার কথা বলেছেন। উত্তর কলকাতার কাশী বোস লেন সেই পথেই মণ্ডপ সাজাচ্ছে। দমদম পার্ক তরুণ দল পুজো কমিটির সদস্যরাও রবিবার সকালে ক্লাবঘরে বসেছিলেন আলোচনায়। এ দিনই শুরু হয়েছে তাদের মণ্ডপ তৈরির কাজ। কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ প্রসাদ জানালেন, সরকারি নির্দেশ মেনেই যাতে মণ্ডপ করা যায়, সেই কারণেই কিছুটা দেরিতে কাজ শুরু হল।

Source

ওয়েব ডেস্ক

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

'গণতান্ত্রিক রীতিতে আঘাত', রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ১২

Mon Sep 21 , 2020
রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনল ১২টি বিরোধী দল। তাঁর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক রীতি এবং পদ্ধতি উপেক্ষা করার অভিযোগ আনা

আরও দেখুন